ব্রাজিল বিশ্বকাপ ২০১৪-Fifa World Cup Brazil -2014

ব্রাজিলের সামনে জয় ছাড়া কোন পথ নাই । আজ যদি ব্রাজিল কেমেরুনর সাথে হারে তাহলে তাদের কঠিন সমীকরন কষতে হবে।

কেমেরুন এর সাথে ব্রাজিলের চার বার দেখা হয়েছে তার মধ্যে তিন বার ব্রাজিল এবং এক বার কেমেরুন জিতেছে।

world cup Group A

world cup Group A

ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্বকারী ফুটবল দল। এই দলটিকে নিয়ন্ত্রণে করে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন । ১৯২৩ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা’র সদস্য হয়। এরপূর্বেই ১৯১৬ সাল থেকে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন কনমেবলের অন্যতম সদস্য দেশ। ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফলতম দলটি হচ্ছে ব্রাজিল। এ পর্যন্ত দলটি পাঁচবার  বিশ্বকাপ জয় করেছে যা একটি রেকর্ড। ফুটবলের ব্যাপারে একটি সাধারণ উক্তি হচ্ছে: অর্থাৎ, ‘ইংল্যান্ডের আবিষ্কার, আর ব্রাজিলের পরিপূর্ণতা দান’। ফিফা’র বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে দেশটির অবস্থান তৃতীয়। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই দলটি শীর্ষস্থানে ছিল। এছাড়া এলো’র রেটিং অনুসারে ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর ফুটবল জাতি। এখন পর্যন্ত ব্রাজিল-ই একমাত্র দল যারা বিশ্বকাপের সবগুলো আসরেই অংশগ্রহণ করেছে।

ব্রাজিলের দুর্বলতা যেখানেঃ

দর্শকের প্রত্যাশার চাপ

স্কলারি ড্রয়ে সন্তুষ্ট হোন বা না হোন, প্রিয় দলের জয়ই ব্রাজিল সমর্থকদের একমাত্র সন্তুষ্টি। আর সেই জয়ও হতে হবে একেবারে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেওয়া! আর ব্রাজিলের জন্য সাফল্যের সংজ্ঞা তো একটাই, বিশ্বকাপ জয়! ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ বলে এবারে ব্রাজিলের মাটিতেই কাপ রেখে দিতেও মরিয়া ব্রাজিলীয়রা। পুরো বিষয়টিই প্রচণ্ড চাপ হয়ে দেখা দিতে পারে ব্রাজিল দলের ওপর।

নিজেদের প্রথম দুটি খেলায় নড়বড়ে শুরু, অসম্পূর্ণ শুরু, রক্ষণের সমন্বয়হীনতার মূল কারণ যে চাপ, সেটা বিশ্লেষকদের চোখে বেশ ভালোভাবেই ধরা পড়েছে। অধিনায়ক থিয়াগো সিলভাকে প্রতিটি ম্যাচেই মনে হয়েছে খুব অস্থির। অথচ, ঠান্ডা মাথার খেলোয়াড় হিসেবে তিনি পরিচিত। এসবই প্রত্যাশার চাপ। গ্যালারির দর্শক-সমর্থনের ঢেউ সামলানোর কৌশলটি খুব দ্রুত রপ্ত করে ফেলতে না পারলে ভবিষ্যতের বড় ম্যাচগুলোতে দল যথেষ্ট বিপদে পড়ে যেতে পারে।

নেইমারের প্রতি নির্ভরতা

প্রথম দুটি ম্যাচের পর এতটুকু অন্তত নিশ্চিত, নেইমারই দলের মূল খেলোয়াড়। পুরো ব্রাজিল দলও মাঠে তাকিয়ে থাকে এই খেলোয়াড়টির দিকেই। এটা খোদ নেইমারের জন্যও চাপ। এই তরুণ-তুর্কি সবকিছু সামলে দলকে ফাইনালে তুলতে নিজেকে কতটুকু নিংড়ে দিতে পারবেন, সেটার ওপরই নির্ভর করছে ব্রাজিলের সাফল্য। নেইমারের সঙ্গে একমাত্র অস্কার ছাড়া বাকিদের সমন্বয়ও খুব আশাবাদী হওয়ার মতো মনে হয়নি বিশ্লেষকদের। নেইমারের একদিনের ছন্দহীনতা (যা যেকোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে ঘটাটাই স্বাভাবিক) বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিতে পারে ব্রাজিলকে।

স্ট্রাইকার নিয়ে দুশ্চিন্তা

যাকে কেন্দ্র করে স্কলারির আক্রমণ-পরিকল্পনা, সেই ফ্রেড ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে রেফারিকে এক বিতর্কিত পেনাল্টি দিতে উদ্বুদ্ধ করা ছাড়া তেমন কিছুই করতে পারেননি। মেক্সিকোর বিপক্ষে তো ফ্রেডকে তুলে নিয়ে জোকে মাঠে নামাতে হয়েছে কোচকে। স্ট্রাইকার নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায়ই পুরো টুর্নামেন্ট কাটাতে হতে পারে স্কলারিকে। পুরো প্রতিযোগিতাতেই ডিয়েগো কস্তাকে খুব মিস করবেন স্কলারি।

পাউলিনহো

স্কলারির কপালে দুশ্চিন্তার নতুন রেখা তৈরি করেছে দলের মধ্যমাঠ। টটেনহাম হটসপারের মধ্যমাঠ সামলানো পাউলিনহো এ পর্যন্ত দুই ম্যাচেই ছিলেন নিষপ্রভ। মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে নিজেকে ‘আগের চেয়ে ভালো’ দাবি করলেও ক্যামেরুনের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচ কিংবা বাকি বিশ্বকাপে দলের মধ্যমাঠের দায়িত্ব তাঁর ওপরই থাকা উচিত কি না, তা জোর দিয়ে বলা যায় না। এই মুহূর্তে নেইমার-অস্কারের সঙ্গে মধ্যমাঠের একজন দক্ষ প্লে-মেকারের বড্ড বেশি প্রয়োজন ব্রাজিল দলে।

‘প্ল্যান বি’র অভাব

ম্যাচের প্রথমেই প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে তাদের মানসিকভাবে দুর্বল করে দেওয়ার পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন স্কলারি। কিন্তু দুটি ম্যাচেই এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় পুরো দলকেই ছত্রভঙ্গ ও অসংলগ্ন মনে হয়েছে। মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রথম ৩০ মিনিটে অনেকগুলো সুযোগ থাকা সত্ত্বেও গোল করতে না পারার পর গোল করার অনুপ্রেরণাই হারিয়ে গেছে বলে মনে হয়েছে অনেক সময়। মেক্সিকোর প্রতি-আক্রমণগুলোর সামনেও দলকে অনেক সময় অসহায় মনে হয়েছে। তুলনামূলক শক্ত প্রতিপক্ষের সামনে দাঁড়াতে তাই নিয়মিত রণকৌশলের বাইরে ‘প্ল্যান বি’ নিয়েও ভাবতে হবে স্কলারিকে।

78924 D0 3 T0
Image of
Image of
Image of